ইসলামে মানুষের সম্পত্তির অধিকার স্পষ্টভাবে নির্ধারিত। কিন্তু সমাজে অনেক সময় দেখা যায়, ইবাদত-বন্দেগি করেও কিছু বাবা মেয়েদের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেন। আবার অনেক ভাইও কৌশলে বোনদের প্রাপ্য অংশ আত্মসাৎ করেন। এটি শুধু পারিবারিক অন্যায় নয়, ইসলামের নির্ধারিত বিধান লঙ্ঘনও।
কিছু বাবা নিজের সম্পত্তি ছেলেদের নামে লিখে দিয়ে মেয়েদের অংশ থেকে বঞ্চিত করেন। এমনকি কেউ কেউ দাবি করেন, সম্পত্তি যেহেতু তাদের, তাই তারা ইচ্ছামতো তা বণ্টন করতে পারেন। ইসলামী দৃষ্টিতে এমন মানসিকতা গুরুতর অন্যায়।
একইভাবে বাবার সঙ্গে যোগসাজশ করে বোনের প্রাপ্য অংশ আত্মসাৎ করাও জুলুম। ইসলামে বান্দার হক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ ধরনের অন্যায়ের জন্য পরকালে জবাবদিহি করতে হবে।
কুরআনের দৃষ্টিতে উত্তরাধিকার বণ্টন ও সতর্কবার্তা
উত্তরাধিকার সম্পত্তি বণ্টনের সুনির্দিষ্ট বিধান দেওয়ার পর আল্লাহ তাআলা আনুগত্যকারীদের জন্য জান্নাত এবং সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য অবধারিত জাহান্নামের ঘোষণা দিয়েছেন—
تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ ۚ وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ۚ وَذَٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
‘এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করবে, আল্লাহ তাকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশ দিয়ে নদী প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আর এটিই মহা সাফল্য।’ (সুরা আন-নিসা: আয়াত ১৩)
সীমালঙ্ঘনকারী ও হক হরণকারীদের বিষয়ে সতর্ক করে আল্লাহ তাআলা আরও বলেন—
وَمَن يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُّهِينٌ
‘আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রাসুলের নাফরমানি করে এবং তার নির্ধারিত সীমারেখা অতিক্রম করে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন; সেখানে সে চিরকাল থাকবে এবং তার জন্য রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।’ (সুরা আন-নিসা: আয়াত ১৪)
হাদিসের আলোকে সম্পদ আত্মসাতের শাস্তি
উত্তরাধিকারীর অংশ হরণ এবং অন্যায়ভাবে অন্যের জমি বা সম্পদ ভোগদখল করার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.) সুস্পষ্ট সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন—
জান্নাত থেকে বঞ্চিত হওয়া
مَنْ فَرَّ مِنْ مِيرَاثِ وَارِثِهِ قَطَعَ اللَّهُ مِيرَاثَهُ مِنَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
‘যে ব্যক্তি তার ওয়ারিশের উত্তরাধিকারের অংশ হরণ করে পলায়ন করবে (বঞ্চিত করবে), কিয়ামতের দিন আল্লাহ জান্নাতে তার অংশ কেটে দেবেন (বঞ্চিত করবেন)।’ (ইবনে মাজাহ ২৭০৩)
জমিন দখলের ভয়াবহ শাস্তি
مَنْ ظَلَمَ قِيدَ شِبْرٍ مِنَ الأَرْضِ طُوِّقَهُ مِنْ سَبْعِ أَرَضِينَ
‘যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে এক বিঘত পরিমাণ জমিও আত্মসাৎ করবে, কিয়ামতের দিন সাত স্তবক জমিন তার গলায় বেড়ি হিসেবে পরিয়ে দেওয়া হবে।’ (মুসলিম ১৬১০)
জীবদ্দশায় দান বনাম মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারের বিধান
সন্তানদের সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে শরিয়তের দুটি স্পষ্ট পর্যায় রয়েছে—
পিতার জীবদ্দশায় বণ্টন (হেবা বা দান): পিতা যদি জীবিত অবস্থায় সন্তানদের মাঝে সম্পদ বণ্টন করতে চান, তবে সব ছেলে ও মেয়েকে সমানভাবে দিতে হবে। কাউকে বেশি ও কাউকে বঞ্চিত করা স্পষ্ট জুলুম।
